নূরনবী হীরা’ র গুচ্ছ কবিতা

রূপসী তুমি

তুমি-
বৈশাখী ঝড়ো হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড অখণ্ড প্রকৃতির প্রশমন
নিপুণ হাতে রোজ প্রভাতে গড়ে তোলা অবুঝ মনের সবুজ বাগিচা;
তুমি,
ছোট্ট শিশুর প্রাণ চঞ্চল মায়াবী হাসি অবিকল
তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা পুষ্টি জৈষ্ঠের রসালো ফল।

তুমি-
অবিরাম বরিষণে ফুটন্ত কদম ছুটন্ত হাওয়া
ঝিলের জলে ভেসে ওঠা পদ্ম মাঝির গান গাওয়া।
তুমি,
শ্রাবণে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃষ্টি বিলাস
আষাঢ়ের ঢেউ, ফুলে ওঠা যৌবনা নদী
তুমি,
উতলা নয়নে অপেক্ষার প্রহর গুনা রিমঝিম সন্ধ্যা
প্রেমের বরিষনে বধুয়ার লাল টিপ, শীতল শিহরণ।

তুমি-
ভাদ্রের আকাশে উড়ো চিঠি, মিটিমিটি হেসে, ভেসে চলা শুভ্র মেঘ
এলোমেলো চাওয়ায় পিতল হৃদয় শীতল করা দখিনা হাওয়া।
তুমি,
পাল তোলা নৌকায় বয়ে চলা দূর বহুদূর
মোহিত করা আশ্বিনের পেয়ারি ঘন কাশফুল।

তুমি-
সবুজের সমারোহে কার্তিকের হিমেল হাওয়া
প্রভাতে শিশিরে রোদ্দুর ইন্দ্রীয়ের চাওয়া পাওয়া
তুমি,
চারণ ভূমিতে কৃষকের কষ্টার্জিত প্রাণের ফসল
অঘ্রানের নবান্নে পিঠাপুলির ধুম, সবুজে সাজানো সজীবতা
তুমি,
পুরো বছরের প্রতীক্ষিত শুভ হালখাতা।

তুমি-
শীতের শ্রেষ্ট আবেদন খেজুরের রস
পৌষের কনকনে শীতে ভোরের মিষ্টি রোদ্দুর
তুমি,
আয়েশ করে খাওয়া পিঠা পায়েস
মাঘে উঁকি দেওয়া আমের মুকুল
তুমি,
চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে হৃদয় কেড়ে নেওয়া নদীর দুকূল।

তুমি-
ফুলের বাহারে সজ্জ্বিত করা প্রকৃতিরাণী
ফাল্গুনী ভোমোরার গুণগুণ করা গান
তুমি,
আঙিনায় ভেসে আসা সুরবি
মন আকুল করা ফুলের ঘ্রাণ
তুমি,
চৈত্রের দাবদাহে তৃপ্তিকর মাঠ ভরা সোনার ফসল,
তুমি,
রূপসি, সুন্দরী, যৌবনা ফুল
তুমি আমার বাংলাদেশ তোমাতেই
হৃদয় আকুল।

২.
ডাক দাও

কাঁদে দেশ কাঁপে শীতে তীব্র যাতনা মায়ের
সভ্যতার কাটা দাগ শিকল পড়া পায়ের
গুলি খেয়ে বুলি মরে জলে ভাসে পচা লাশ
মানবতা নেই বলে কেঁদে মরে বুনোহাঁস।

অধিকার গিলে খায় কেড়ে নেয় জোর করে
টুঁটি চেপে ধরে আরো পেশী বলে দূর করে-
হরিলুট করে খায় ভাবে এটা মহাগুণ
হায়েনা লুটে ইজ্জ্বত বোনকে শেষে করে খুন
লেলিহান শিখা জ্বলে নিরীহরা খায় ধোঁকা
শিক্ষিত চোর নীরব তাঁরা যেন হলো বোকা।

ভয়ংকর এ সংকটে অংকের ফল নামাও
মাথায় বাঁধো জোয়ান রক্তে রঞ্জিত জামাও
হাঁক ছেড়ে ডাক দাও হুংকারে ওঠুক কেঁপে
অসভ্য দুর্বল হোক ধরছে যারা গলা চেপে।

৩.
জমজম কূপ

বিস্তৃত মরুর বুকে পবিত্র কৃষ্ণচাঁদ
সাকার ধারণ করেছে মনো কুটিরে।
সুশীতল হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করি
প্রেমের তৃষ্ণায় তৃষিত মনে,
ছুটাছুটি করি সাফা-মারওয়ায়।
ঘন নিশ্বাসে ধুকধুকানি বাড়ে,
অভিসারে আসওয়াদের পূর্ব-দক্ষিণে তালাশ করি জমজম কূপ।

গা চমচম করে, মনে সুরগোল ভিন্ন সাইরেন
দৃষ্টিতে তিন সুরঙ্গের পবিত্র সুরা
ফিরে এসে ধীরে ধীরে জমে খেজুর রসের পাত্রে;
উপচায় মুসাফিরের তৃষ্ণা মিটানো সেই সুরা।
অলক্ষ্যে পলক ফেলে গভীরতা করি অনুমান,
দৈর্ঘ্য প্রস্থে হস্ত বুলায়ে জ্যামিতিক লম্বের কেন্দ্র আঁকি।

স্বচ্ছ বুকের স্বচ্ছ প্রেম মুগ্ধতার ভরে মন
আপন-পিয়াসী উদাসী হয়ে খোঁজে যখন সুবাস
আভাস মিলে মোহময় অর্কিডের।
ততক্ষণে মনো বাসনা আরো তীব্র হয়
জমজম কূপে সাবধানে নমাই বোতল
অতল গহ্বরে মর্ত্যের স্বর্গ অনুভব করি।
সুখ পাই এ গভীর সুখ!
সত্যিই, সুখ যদি এমনই হতো,
ঝর্ণার জলের মতো বয়তো দিবানিশি,
স্বচ্ছ পানিতে মনের রাণীতে বিভোর হয়ে দেখতাম
প্রেমময় মরুর প্রখর হাসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*