শামীম খান যুবরাজ’র গুচ্ছ ছড়া

ও মাঝি ভাই

ও মাঝি ভাই যাচ্ছো কোথায়
আমায় নিয়ে যাও-
দেখব আমি কেমন তোমার
অচিনপুরের গাঁও।

দেখব তোমার গাঁয়ের মানুষ
দেখব গাঁয়ের বাড়ি
দেখব আমি সবুজ সবুজ
বৃক্ষ সারি সারি।

শুনব পাখির কিচিরমিচির
ডাহুকছানার ডাক
পাতিহাঁসের প্যাকপ্যাকানি
লাল মোরগের বাক।

দেখব গাঁয়ের ছোট্ট ছেলের
খেলায় মাতা মাঠ
ছলাৎ ছলাৎ পানির নাচন
নৌকা বাঁধা ঘাট।

দেখব কেমন গাঁয়ের বুড়ো
চায়ের দোকান জুড়ে
আড্ডা এবং গালগল্পের
ধোঁয়া কেমন ওড়ে।

ও মাঝি ভাই নাও না আমায়
তোমার অচিন গাঁয়
যান্ত্রিকতা ছেড়ে এবার
থাকব নিরালায়।

২.
গোয়ালার দাবি

গোয়ালা তোমার-
দুধ কেনো এতো পাতলা আজ
টলটলে তার সুরত দেখেই
কপালে পড়েছে ভাঁজ-
পানি মেশানো নয় তো কোনো
ভালো মানুষের কাজ।

ভুল বুঝেন না স্যার
কসম খাইছি মা’র
কাল সারারাত বৃষ্টি হইলো
ভিজলো আমার গাভি,
দুধটা হইলো ফানসা যে তাই
গোয়ালার সোজা দাবি।

৩.
বেতস বনে

বেতস বনে রাতদুপুরে
ডাহুক ডাকে,
এই বনেরই গহিন কোণে
ডাহুকগুলো চুপটি করে
দিনদুপুরে লুকিয়ে থাকে।

বনের পাশে বিশাল ঝিলে
বনের যত ডাহুক মিলে
খাবার খোঁজে ভোরের বেলা,
কচুরিপানার পিঠে চড়ে
ডাহুকছানা করে খেলা।

বেতস বনে তাদের বসত
সুখের আবাসখানি,
ঝোপের ভেতর লুকিয়ে থাকার
সুখটা দারুণ জানি।

৪.
গোমড়ামুখো

গোমড়ামুখো গোমড়ামুখো
হাসতে শেখো হাসতে
ছোট্ট জীবন একটুখানিক
শেখো ভালোবাসতে।

গোমড়ামুখো হাসলে দেখো
সুস্থ থাকা যায় যে
হাসিমুখো প্রিয় সবার
ভালোবাসা পায় যে।

গোমড়ামুখে থাকে যারা
মনের অসুখ বাঁধে
হাসিখুশির মানুষ বাঁচে
নানারকম স্বাদে।

গোমড়ামুখে আর থেকো না
মুচকি হাসি হেসো
ছোট্ট জীবন বাঁচতে সুখে
নিজকে ভালোবেসো।

৫.
লেখকের ভিক্ষা

টাকা কামানোর হাজার উপায়
বইটি লিখেছেন ফের-
ভিক্ষা করছেন! মাথা খেয়েছেন
লজ্জা শরমের।

ট্রেনের বগিতে ঘুরছেন খুব
হাত পাতছেন আর-
ক্যামনে কী মশাই? বুঝলাম নাতো
এ কেমন কারবার।

এটাও উৎস টাকা কামানোর
বইটা পড়েন আবার,
আজকের আয় পুরো হয়ে গেছে
পথ ছেড়ে দিন যাবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*