হাসিনা-মোদি’র ভার্চ্যুয়াল সামিটে ৭ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত

মোহাম্মদ হাসানঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধণ পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দেই। বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা ভারতে নিজ দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্য দিকে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী তারা ভারতে যাচ্ছে এবং এই সহযোগিতা নিচ্ছে।

আজ ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকার গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ বৈঠকে অংশ নেন। দেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল বছর জুড়ে বাণিজ্য উচ্চ পর্যায়ে পরিদর্শন, সভা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কলকাতা থেকে উত্তর পূর্ব ভারতের পণ্য সামগ্রীর প্রথম পরীক্ষামূলক চালান গ্রহণ এবং অবশ্যই কোভিড-১৯ এর বিষয়ে সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত জনবল অঞ্চলে কোভিড-১৯ যেভাবে আপনার সরকার মোকাবিলা করেছে তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ ছাড়াও আত্মনির্ভর ভারত এই উদ্যোগে প্রবর্তিত অর্থনীতির প্যাকেজগুলো প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি আপনার গৃহিত নীতিমালার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই ভার্চ্যুয়াল সামিটে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতায় সাতটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের মধ্যে এসব সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা, দুই দেশে মধ্যে হাতি সংরক্ষণ সহযোগিতা, বরিশালে একটি পয়ঃনিষ্কাশণ প্ল্যান্ট তৈরি ও কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সিইও ফোরাম, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর ও ভারতের জাতীয় জাদুঘরের মধ্যে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে এসব সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ।

বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সাত মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ভারতের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এসব সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খালিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*