মহেশখালীতে মুজিব কিল্লার জন্য ব্যাক্তিগত জমি থেকে ক্ষতিপূরণ ছাড়া মাটি উত্তোলণের অভিযোগ

মহেশখালীতে বেড়িবাধের বাহিরে মুজিব কিল্লার জন্য ব্যাক্তিগত জমি থেকে ক্ষতিপূরণ ছাড়া মাটি উত্তোলণের অভিযোগ
মহেশখালী প্রতিনিধিঃ
মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়ায় বেড়িবাধের দক্ষিণে স্থাপন করা হচ্ছে চরপাড়া মুজিব কিল্লা। এই মুজিব কিল্লাটি চলতি মাসের ১০ অক্টোবর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মহেশখালী কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক। উদ্বোধনের পরবর্তি কার্যক্রম নিয়ে মুজিব কিল্লার স্থানের ভূমি সংশ্লিষ্ট মালিকানা ও কার্যক্রম, জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এই বিষয়টিকে জনগণের কল্যাণে করার কথা থাকলেও মুজিব কিল্লাটি স্থাপন নিয়ে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয়ের অভিযোগ তুলেছেন ভূমি মালিকগণ।
জানা যায়, চরপাড়ায় নির্মিত মুজিব কিল্লাটির মাটির ভরাট করতে গিয়ে মাটির পরিবর্তে আশেপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন চাষী নাল জমি থেকে ঠিকাদারের লোকজন বিশাল আকৃতির গর্ত করে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে উক্ত চাষি নাল জমির কাঠামো বিনষ্ট হচ্ছে। যার কারণে বর্ষাকালীন সময়ে উক্ত জমিতে চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। বালি দিয়ে মুজিব কিল্লা স্থাপন করলে দ্রুত বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরদিকে মুজিব কিল্লাটি নির্মিত হওয়ার কথা জনবসতির পার্র্শবর্তী স্থানে। প্রাকৃতির দুর্যোগে প্রাণ বাচাতে মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয়স্থলে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ সুবিধা সম্বলিত। এ মুজিব কিল্লাটি জনবসতির অদূরে সাগরপাড়ের কিনারায় বালি চরে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রবল বেগে বৃষ্টি ও বাতাসের সময় মানুষ আশ্রয় নিতে নদীর মোহনার দিকে যেতে হবে। এসময় আশ্রয়ের চেয়ে প্রাণহানীর ঝুঁকি বেশি রয়েছে বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষেরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে নতুন যে মুজিব কিল্লাটি নির্মিত হচ্ছে তার এক কিলোমিটার উত্তরে ৫নং ওয়ার্ডে জনবসতিতে একটি মুজিব কিল্লা রয়েছে। এখন নতুন মুজিব কিল্লাটিও অবকাঠামো ও সীমানাগত ভাবে ৫নং ওয়ার্ডের ভিতরে স্থাপিত হলেও কাগজে কলমে ৯নং ওয়ার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবির আহমদ, ফিরোজ খান, মোঃ রিদোয়ান, মাস্টার জামাল, মিসকাত সহ একাধিক জমির মালিকরা জানান, মহেশখালী পৌরসভার হামিদরদিয়া মৌজার ১১,১২,১৯ নং এমআরআর খতিয়ান এবং দিয়ারা খতিয়ান নং -০৮ মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশন নং – ৬৩৪১/১৭ মামলার রায় মতে এডভোকেট মো.ফারুক ইকবাল সহ ২৫০ জন শরীকদারের পৈত্রিক সম্পত্তি, উক্ত ব্যক্তি মালিকানাধীন চাষের জমির অবয়ব এবং কাঠামো নষ্ট করে লোকালয়ের অনেক বাহিরে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৫৬ হাজার টাকার সরকারী প্রকল্প মুজিব কিল্লা নির্মানের নামে মেসার্স এইচ এম কনস্ট্রাকশন কাজটি বাস্তবায়ন করছে। জনৈক অমিত সরকার নামক ঢাকার এক ঠিকাদার এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী গ্রুপ এডভোকেট ফারুক ইকবাল সহ প্রায় ২৫০ জনের বৈধ মালিকানার চাষের জমিতে খনন করত প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যমানের জমি বিলীন করে দিয়েছে। এই ব্যাপারে অংশীদারগন মহেশখালীর ইউএনও, পিআইও, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর ও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুইচিং মং মারমা জানান, উক্ত জমি নিয়ে একটি পক্ষ মালিকানা দাবী করে লিখিত অভিযোগ করায় সরজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তহশীলদার উক্ত জায়গায় খাস ও রেকর্ডীয় জমি আছে মর্মে জানান। ফলে উভয় পক্ষকে তাদের কাগজ নিয়ে যে কোন দিন বসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করে কোন পক্ষ কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয় হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইতিমধ্যে তাদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরেও কাজ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*